বাংলাদেশের মানুষ ধর্ম নিয়ে যতটা মুখচর্চা করে আসলে কিন্তু ততটা ধার্মিক নয়। বেশির মানুষ ধর্মকে একটা হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহার করে। ব্যক্তিগত, পারিবারিকভাবে বা সমাজিকভাবে ধর্ম যতটা কার্যকর ঠিক ততটাই অকার্যকর পেশাজীবীদের প্রেক্ষাপটে। সে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী যে পেশাতেই থাকুক না কেন। অধিক মুনাফা পেতে যে কোন হাল পর্যন্ত যেতে পারে।
বিভিন্ন মাহফিলে লেকচার দানকারি আলেমদের-ওলামারাও কিন্তু এর বাইরে নয়। এক ঘন্টায় এদের পারিশ্রমিকটা একবার দেখুন, প্রধানমন্ত্রীর এক মাসের বেতনের কাছাকাছি হবে। অজপাড়াগাঁয়ে মক্তবের হুজুরদের এত সুযোগ নেই তারা ঝাড়ফুঁক, তাবিজ কবজ দিয়ে আলগা ইনকাম করে নেন। তবে বেশিরভাগ গ্রামের হুজুরের মাসিক যে বেতন পান তা শুনলে আপনার আমার মত সাধু শ্রেণী মাথানত করে চুপ-চুপকে সটকে পড়ব।
একদিন পরিবহন ধর্মঘট হলেই রিক্সাওলার মত ছোট ছোট পরিবহনকর্মীদের ঈদ এসে যায়।
"ব্যবসায় সত্য কথা বলতে নেই" এই ধরনের প্রবাদই প্রচলিত আছে তাদের মহলে। ব্যাবসার কাজে অনর্গল মিথ্যা বলতে একটুও দ্বিধা হয়না মধ্যপ্রাচ্যের লেবাসে থাকা সমাজের সম্মানিত হাজী ভাইটির। কৃষক থেকে কিনা দশটাকার ধান পঞ্চাশ টাকা কেজি হয়ে যে চাল বাজরে আসে সে চালের দিকে তাকিয়ে থাকে খোদ কৃষকই। তার মানে এই না যে কৃষক তার ফল মিষ্টি করার জন্য রাসায়নিক ক্যামিকেল ব্যবহার করবে না আর আপনি বাজার থেকে ফরমালিন মুক্ত মাছ নিয়ে আসবেন।
সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী তো আছেই, সেখানে পিওনের পর্যন্ত আলগা ইনকাম থাকে। টেবিলের তলায় বা চৌরাস্তার ট্রাফিক সিগনালে কোথায় নেই?
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি দেখলে কখনো মনে হয় না এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। ছাত্রদের টিউশন ফি টাকা দিয়ে কোটি টাকার গাড়িতে চড়ে বেড়ান ফ্যাকাল্টি সদস্যরা।
সরকারি মেডিকেল সার্ভিসকে পুঙ্গ বানিয়ে প্রাইভেট সেক্টরে চলছে রমরমা ব্যবসা। সাতশ টাকা একজন রোগীর ভিজিট যেখানে দেশের ৫২.৯% মানুষের ইনকাম ১০৭ টাকা বা তা নিচে *(বিশ্বব্যাংক ২০১৬)। এইখানে বেশি কিছু বলা যাবে না, টাকা নাই এখানে কেন আসছেন? সরকারি হাসপাতালে যান।
ধর্ম এখানে এসে আটকে যায়। আমরা ধার্মিক ঘরে, ধার্মিক সমাজে কিন্তু আমাদের পেশাগত জীবনে ধর্ম কিংবা ন্যায় বিচারক অজ্ঞান হয়ে যায় কারণ This is business.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন